পাগল দৈচুরার পদাবলি – দ্বিতীয় খণ্ড
সু-ফলের অপেক্ষা!!
______________ দৈচুরা
ঘরের কোণে কিংবা বাজারের ধুলোয়,
মসজিদে নামাজি, মন্দিরে ভক্ত,
অফিসে টাইপিস্ট, আদালতে বিচারক,
স্কুলে শিশুরা, কলেজে প্রেমিক যুগল,
বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী—
কারো মাথার উপর ছাদ নেই আর।
আমি আগেই বলেছিলাম,
এই 'লাল স্বাধীনতা' একদিন তার ফল পাঠাবে—
লালচে রঙের, সুগন্ধহীন, বিষমাখা ‘সু ফল’।
এখন তো দেখছেন—ফল পচে পচে দরজায় কড়া নাড়ছে।
কে নিরাপদ?
বাচ্চা? কিশোর? যুবক? যুবতী? নারী? বৃদ্ধ?
নিরাপত্তা এখন কেবল দেয়ালের মধ্যে একটা শব্দ,
যার মানে—"চুপ থাকো, নয়তো হারিয়ে যাও।"
এতদিন যারা বলেছিল—
“এই দেশ আফগানিস্তান হবে না, পাকিস্তান হবে না”—
তাদের জিজ্ঞেস করুন,
"হয়েছে কি না?"
বা, একটু অপেক্ষা করুন—
'শেখ হাসিনা' নামক টাইমবোমটা কখন সময় গুনে বিস্ফোরিত হয়।
পাগল দৈচুরা আবার বলে:
আমরা যেদিন স্বাধীনতা চেয়েছিলাম,
সেদিন কেউ বলেনি, স্বাধীনতা মানে হবে—
নির্বাচনে টেন্ডারবাজি,
আদালতে পায়রার ঘুম,
পুলিশের গায়ে গুন্ডার জার্সি,
অথবা ফেসবুকে ‘
’ দিলে রাষ্ট্রদ্রোহ!
কিন্তু আমরা পেয়েছি ঠিক সেটাই—
যতক্ষণ না ‘এক ব্যক্তি’ তাঁর চেয়ার ছাড়েন,
ততক্ষণ এই দেশ পিচ্চি থেকে প্রফেসর পর্যন্ত
এক অভিশপ্ত বৃত্তে ঘুরতেই থাকবে।
ঘুর্নিপাক:
আমি দেখি সাংবিধান মাটির নিচে চাপা দেওয়া হচ্ছে—
অন্যায়ের বিরুদ্ধে উঠে আসছেন দম্পতি—
সরকারি বাহিনী, গোয়েন্দা, মিডিয়া—allied—
এক অদৃশ্য চক্রান্তে আঁকছে মানুষের আরমগান নয়,
বরং নির্মম হত্যাকাণ্ড আর গুম-অপহরণ ।
চেনা মুখজ্বলন্ত যন্ত্রণার ছবি:
জলে–স্থলে–মসজিদে–মন্দিরে,
ঘরে, হলেই “নিরাপত্তার স্বাক্ষর” রয়ে গেছে পায়ের ছাপ,
তবে সেই ছাপগুলো আজ রক্তে ছোপা—
মাটির বুক ফাটিয়ে উঠেছে শূন্য গর্ত,
যেখানে কেউ ঘুমায় না, কেউ চিরস্থায়ী নাই।
বাচ্চা–কিশোররা এখন কাঁদা নয়,
সহ সন্তানরা শেখে—ছোট্টো তারাময়ের কয়েদে,
যেখানে লেখার নামাজে অক্ষর গুলি হয় নিশ্ছিদ্রে।
রাজশ্রীর মসজিদে, গোরস্থানে দাঁড়িয়ে বসে—
যারা শাসক বই পাঠাতে ব্যর্থ,
তারা বলে—‘আমরা শান্তি চাই আমরা মতি চাই’
আর আর্তনাদ করে—‘আইন নেই, নিরাপত্তা নেই’।
আর যখন কোথাও এক শূন্য জায়গায়
“Operation Devil Hunt” নামে খেলা হয় জনসত্তার,
যাতে এক পক্ষ আজ মামলায় ফাঁদে,
কাল অন্য পক্ষ ফাঁদে—সবাই বসছে রাষ্ট্রঘাতির কাঠগোলায় ।
জনপদ ঔদ্ধত্যে বিভীষিকা
আমরা ভাবেছিলাম ‘স্বাধীনতা’,
কিন্তু পেয়েছি—
“state-sponsored ক্রিমিনালিটি”,
“minority pogrom”,
“mob rule যা দখলে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা”—
এটা নয় আফগানিস্তান, পাকিস্তান...
এটা ইয়োনুসের বাংলাদেশ—
যেখানে বিচারের খাঁজে বড় গর্ত তৈরি করেছে দুর্নীতি, ক্লান্তি আর নিষ্ঠুরতা।
অপারেশন ডেভিল ও রক্তপৃষ্ঠ জনপদ
পাগল দৈচুরা বলে,
"ভেবেছিলাম ডেভিল মানে নরকদূত,
কিন্তু এখন বুঝি—ডেভিল তো আমরাই, যারা চুপ করে দেখি।"
রাজপথে, রেললাইনে, নদীর ঘাটে—
হঠাৎ শোনা গেল এক ঘোষণাঃ
“অপারেশন ডেভিল শুরু!”
না, এ কোনো বিদেশি অভিযান নয়,
এ ছিল দেশের ভেতরেই রাষ্ট্রপোষিত প্রতিহিংসার শুরু।
অভিযান চলল আওয়ামী লীগের ঘরেই,
যে ঘরে একদিন 'জয় বাংলা' শোনা যেত,
আজ সেখানে শোনা যায়—
“ওই যে সেক্রেটারি, কাল রাতে ধরা পড়েছে!”
যিনি গালফ থেকে টাকা পাঠাতেন দলের নামে,
আজ তিনিই হয়ে গেলেন ‘দেশদ্রোহী ইনফিলট্রেটর’।
যে নেতা খালেদা-বিরোধিতার দিনে গুলিতে আহত হয়েছিলেন,
তাকেই আজ বলা হয় "দুর্নীতির মুখ",
আর এক ভোরে তুলে নেয় ডিজিএফআই।
তালিকা ছিল প্রস্তুত—
জেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ের ‘অতি প্রভাবশালীদের’,
যারা একদিন নির্বাচন করিয়েছিল,
আজ তারা 'হুমকি'—ক্ষমতার স্থায়িত্বের বিরুদ্ধে।
একজন সাবেক সাংসদকে গ্রেফতার করা হয় মেয়ের বিয়ের দিন,
আর এক ছাত্রলীগ নেতার খোঁজ পাওয়া যায়—
সাভারের এক ইটভাটার চুল্লির ভেতরে—
পাশে পড়ে ছিল ‘জয় বাংলা’ লেখা টি-শার্ট,
যেটা রক্তে ভিজে গিয়েছিল।
তারা বলে—
"শুদ্ধি অভিযান হচ্ছে, অন্যায় রোধ করতে হবে!"
কিন্তু গোপনে জানা যায়—
যারা শেখ হাসিনার উত্তরাধিকার প্রশ্ন করেছে,
যারা ‘পরবর্তী নেতা’ নিয়ে আলোচনা করেছিল,
তাদের নামই ছিল ডেভিল হান্টের মূল তালিকায়।
গ্রামে গিয়ে মাইকিং হয়:
“সরকারবিরোধীদের ধরতে অভিযান চলছে”
কিন্তু রাতে ধরে নেয় নিজের দলেরই সাবেক সভাপতি,
কারণ তিনি একবার বলেছিলেন—
“আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী সরকার এক জিনিস নয়।”
এখন বাজারে কেউ ‘নেতা’ ডাকতে ভয় পায়,
কারণ কে কখন ‘ডেভিল’ হয়ে যায় বলা যায় না।
স্কুলের শিক্ষক ছাঁটাই হন শুধু এই কারণে—
তিনি একবার বলেছিলেন, “এত গুম হচ্ছে কেন?”
বাড়ির সামনে হেলমেটধারীদের গাড়ি থামলে—
মা কাঁপেন, ছেলে পালায়, বাবার মুখ সাদা।
এমনই এক জনপদ এখন তৈরি হয়েছে,
যেখানে ভোর মানেই আতঙ্ক,
দুপুর মানেই নিখোঁজ সংবাদ,
রাত মানেই "ডেভিলদের দখলে বাংলাদেশ"।
পাগল দৈচুরার শেষ উচ্চারণ:
“এই যে পুতুলের মতো নেতা ধরো-ছুঁড়ো খেলা,
এটা যখন ঘরের মধ্যেই শুরু হয়—
তখন বোঝা যায়,
সরকার নিজেই নিজের ছায়া দেখে ভয় পেতে শুরু করেছে।
একদিন বলেছিলাম—
‘এই লাল স্বাধীনতার সু ফল আসবে ঘরে ঘরে’—
এখন বুঝলেন?
যে ঘরে পতাকা ওড়ে, সে ঘরেই লাশ ঝুলে পড়ে!”
রাষ্ট্র যখন নিজেকেই খেয়ে ফেলে, তখন তার নাম হয়— অপারেশন ডেভিল।

Comments
Post a Comment