Posts

Showing posts from July, 2025

নির্বাসনের নোটবুক

Image
________________________দৈচুরা কাল হাওয়ার হালকা ঘ্রাণে পেরিয়ে যাই মরা নদীর মতো শহর, এক জিউসীয় কুঠুরিতে ঢুকতেই বেজে ওঠে ‘দক্ষিণী সেতু’— নামহীন এক ব্যান্ড, তবু তার সুরে বাজে পূর্বপুরুষের মৃদঙ্গ, রেলগাড়ির মতো কাঁপে মাটি, আর আমার শিরায় ছুটে চলে ইতিহাস। মঞ্চে ওঠে এক নকলবিহীন ছায়া , গলায় বাঁশির মরুভাষা, পায়ের তালিতে জেগে ওঠে জনতার পদচিহ্ন। সে যেন প্রতিধ্বনি-বাজ , যে মৃত কণ্ঠকে জীবিত করে তোলে নিজের রক্তে। কিন্তু রাষ্ট্রের চোখে সে পলাতক সুর , তাকে হত্যা নামের এক গন্ধহীন অভিযোগে দেশ থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে— যেন প্রতিবাদের কণ্ঠই এখন রাষ্ট্রদ্রোহ। আরেক পাশে বসে আছে লোককাহিনির কবি , যে আমাকে একদিন ডাউনটাউনের নির্জনে বলেছিল, "চিৎকার করো, যদি গলা কেটে না যায়!" তার ক্যামেরায় রেকর্ড হয়েছিল একটা নির্জন কবিতা— এখন তা সাগরের তলদেশে হারিয়ে যাওয়া একটা শঙ্খমালা। দেখা হয় স্মৃতির কোলাহলে বসবাসকারী শিল্পী ও ঘাতক-বধিরতা নির্মূলের স্বপ্নদ্রষ্টা -র সঙ্গে। তারা বলে যায় পুরনো সময়ের কথা, যেন সিল্কের খামে রাখা চিঠি খুলে পড়ছে বাতাসে। তবু প্রশ্ন জেগে থাকে— দেশে কি তবে শুধু ঘূর্ণির পুতুলেরা থা...

পাগল দৈচুরার পদাবলি – দ্বিতীয় খণ্ড

Image
সু-ফলের অপেক্ষা!! ______________ দৈচুরা জলে, স্থলে, পাহাড়ে, সমতলে, ঘরের কোণে কিংবা বাজারের ধুলোয়, মসজিদে নামাজি, মন্দিরে ভক্ত, অফিসে টাইপিস্ট, আদালতে বিচারক, স্কুলে শিশুরা, কলেজে প্রেমিক যুগল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী— কারো মাথার উপর ছাদ নেই আর। আমি আগেই বলেছিলাম, এই 'লাল স্বাধীনতা' একদিন তার ফল পাঠাবে— লালচে রঙের, সুগন্ধহীন, বিষমাখা ‘সু ফল’। এখন তো দেখছেন—ফল পচে পচে দরজায় কড়া নাড়ছে। কে নিরাপদ? বাচ্চা? কিশোর? যুবক? যুবতী? নারী? বৃদ্ধ? নিরাপত্তা এখন কেবল দেয়ালের মধ্যে একটা শব্দ, যার মানে—"চুপ থাকো, নয়তো হারিয়ে যাও।" এতদিন যারা বলেছিল— “এই দেশ আফগানিস্তান হবে না, পাকিস্তান হবে না”— তাদের জিজ্ঞেস করুন, "হয়েছে কি না?" বা, একটু অপেক্ষা করুন— 'শেখ হাসিনা' নামক টাইমবোমটা কখন সময় গুনে বিস্ফোরিত হয়। পাগল দৈচুরা আবার বলে: আমরা যেদিন স্বাধীনতা চেয়েছিলাম, সেদিন কেউ বলেনি, স্বাধীনতা মানে হবে— নির্বাচনে টেন্ডারবাজি, আদালতে পায়রার ঘুম, পুলিশের গায়ে গুন্ডার জার্সি, অথবা ফেসবুকে ‘ ’ দিলে রাষ্ট্রদ্রোহ! কিন্তু আমরা পেয়েছি ঠিক সেটাই— যতক্ষণ না ‘এক ব্যক্তি’ তাঁর চেয়ার ...

“আর কত?”

Image
______________দৈচুরা পথের মাঝে পড়ে আছে শরীর, রক্ত জমে গেছে ঢালু নর্দমায়। চোখ দুটো খোলা—অথচ নেই আলো, একদল মানুষ তাকে ঘিরে— পাথর তুলে আঘাত করে, আবার করে, আরও করে! কে বলে জন্তু শুধু বনে বাস করে? সে চিৎকার করেছিল, "বাঁচাও!" কিন্তু চারদিক নীরব, মুঠোফোন উঠিয়ে ভিডিও নেয় কেউ, কেউ দেয় ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট। পিটিয়ে মেরে ফেলো! বাঁশ দিয়ে, রড দিয়ে, শরীর নয়, মাংসের পিণ্ড হয়ে যাক! জ্বালিয়ে দাও তাকে! মানুষের নামে কলঙ্ক যাক ছাই হয়ে! কে ছিল সে? তাতে কী আসে যায়? তার দোষ ছিল, সে একা পড়েছিল— আর আমরাও ছিলাম চুপ! এই কি সভ্যতা? এই কি ধর্ম? এই কি রাষ্ট্র? এই কি শিক্ষা? শুনো, যারা পিটিয়ে হত্যা করো— তোমাদের চেহারায় এখন ছায়া নেই, রক্তে রক্তে ডুবে গেছে পাপের প্রতিচ্ছবি! তোমাদের হাত পবিত্র নয়, তোমাদের পায়ের নিচে রাজপথ নয়, লাল গলির মতন পাপচক্র! তোমাদের হাতে শুধু মৃত্যু নয়, তোমরা জন্ম দিচ্ছো ভয়, দিচ্ছো এক নতুন দানব সমাজ— যেখানে বিচার মানে ভিড়, আইন মানে উত্তেজনা, আর সত্য মানে কে বেশি চিৎকার করল! আজ আমার ক্রন্দন আসে না— কারণ কান্না দিয়ে আর কিছু হয় না, আমি চিৎকার করি— আর কত? আর কত পাথর! আর কত আগুন! আর কত মিথ্য...

""দন্ড নয় দহন"

Image
  ________________ দৈচুরা যখন রাষ্ট্র ঘুমায়, আদালত হয় অন্ধ, আর শাসক হাসে গণকবরের পাশে দাঁড়িয়ে— তখন খুন থামে না আইনের বইয়ে, থাকে না গরাদের গায়ে লেখা ‘ন্যায়বিচার’। তখন অন্যায়কে শুধু ঘৃণা নয়, ঘা দিতে হয়! তখন অত্যাচারকে বক্তৃতা নয়, বুকফাটা চিৎকার দিয়ে থামাতে হয়! এটাই তো শিখিয়েছে শাসক! যার লাঠি, তারই বিচার। যার ভয়, তারই আইন। যার হাত রক্তে রাঙা, তাকেই বলে ‘রাষ্ট্রনায়ক’! তাই আজ বলি— হত্যা থামবে না পুষ্পস্তবক দিয়ে, রক্ত থামবে না সমাবেশে গান গেয়ে, এখন দরকার— রক্তের হিসাব, রক্ত দিয়ে চুকানো।