“আর কত?”


______________দৈচুরা
পথের মাঝে পড়ে আছে শরীর,
রক্ত জমে গেছে ঢালু নর্দমায়।
চোখ দুটো খোলা—অথচ নেই আলো,
একদল মানুষ তাকে ঘিরে—
পাথর তুলে আঘাত করে,
আবার করে,
আরও করে!
কে বলে জন্তু শুধু বনে বাস করে?
সে চিৎকার করেছিল, "বাঁচাও!"
কিন্তু চারদিক নীরব,
মুঠোফোন উঠিয়ে ভিডিও নেয় কেউ,
কেউ দেয় ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট।
পিটিয়ে মেরে ফেলো!
বাঁশ দিয়ে, রড দিয়ে,
শরীর নয়, মাংসের পিণ্ড হয়ে যাক!
জ্বালিয়ে দাও তাকে!
মানুষের নামে কলঙ্ক যাক ছাই হয়ে!
কে ছিল সে?
তাতে কী আসে যায়?
তার দোষ ছিল,
সে একা পড়েছিল—
আর আমরাও ছিলাম চুপ!
🔥 এই কি সভ্যতা?
🔥 এই কি ধর্ম?
🔥 এই কি রাষ্ট্র?
🔥 এই কি শিক্ষা?
শুনো, যারা পিটিয়ে হত্যা করো—
তোমাদের চেহারায় এখন ছায়া নেই,
রক্তে রক্তে ডুবে গেছে পাপের প্রতিচ্ছবি!
তোমাদের হাত পবিত্র নয়,
তোমাদের পায়ের নিচে রাজপথ নয়,
লাল গলির মতন পাপচক্র!
তোমাদের হাতে শুধু মৃত্যু নয়,
তোমরা জন্ম দিচ্ছো ভয়,
দিচ্ছো এক নতুন দানব সমাজ—
যেখানে বিচার মানে ভিড়,
আইন মানে উত্তেজনা,
আর সত্য মানে কে বেশি চিৎকার করল!
আজ আমার ক্রন্দন আসে না—
কারণ কান্না দিয়ে আর কিছু হয় না,
আমি চিৎকার করি—
আর কত?
আর কত পাথর!
আর কত আগুন!
আর কত মিথ্যা ‘গুজব’!
আর কত দর্শক দাঁড়িয়ে দেখে মানুষ মরবে?
আমরা কি সবাই খুনি?

নাকি খুনের শরিক?
নাকি কেবল নীরব ব্যবস্থার বশংবদ?
না! আমি নই! আমি বলি—না আর নয়!
মানুষ জ্বলে না,
মানুষ পিটিয়ে মরে না,
মানুষ ‘গুজব’ নয়—
মানুষ রক্তের তৈরি,
জীবনের জ্যোতির প্রতীক!
আমি বলি—
পাথর থামাও!
হত্যা থামাও!
ভিড়ের বিচার থামাও!
এই নীরব রাষ্ট্রকে জাগাও!

Comments

Popular posts from this blog

নির্বাসনের নোটবুক

“স্বর্গে যা নেই”